সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
রয়টার্সকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা

ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন: নেতাকর্মীসহ ‘আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা

ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি এবং তার দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তবে দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার শিকারও হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

 

রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তারপরও আমাকে ফিরতে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমার দলের নেতা-কর্মীরা ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদি মৃত্যুই আসে, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতে আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত আছেন এবং যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।’

 

২০২৪ সালে গণবিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

রয়টার্সকে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের প্রতি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা কীভাবে আচরণ করে, তা দেখা যাবে।

 

তিনি জানান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আওয়ামী লীগের নির্বাসিত আরও কয়েকজন নেতাও তার সঙ্গে দেশে ফিরবেন। তাদের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। তবে তিনি কবে দেশে ফিরবেন, কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বা সুনির্দিষ্ট তারিখ কী হবে, তা জানাননি।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। তারা বারবার ভারতকে চিঠি দিয়ে আমাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করছে। কিন্তু আমি নিজেই দেশে ফিরব।’ তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি ।

 

‘গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং বিচার এসব গোপন আলোচনার বিষয় নয়,’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তাই তিনি তাদের বলেছেন, ‘এবার আমি দেশে ফিরছি। একদিন তোমরাও সবাই ফিরে আসবে। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব।’

 

তিনি বলেন, তিনি কারাবাস নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। অতীতেও একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে।

 

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তাকে একাধিকবার আটক করা হয়েছিল। পরে ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হন। মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় ফেরেন।

জামালপুরে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা

২০২৪ সালে দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তার বাসভবনের দিকে জনতা এগিয়ে আসছিল এবং তার জীবনের ওপর হুমকি তৈরি হয়েছিল।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতে পারে। কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু একটি সরকারের ভালো-মন্দ বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।’

 

তিনি জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টিতে অনলাইন বৈঠক করেছেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে কোনো আইনি বাধা নেই: চিফ প্রসিকিউটর

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়ে থাকতে পারে এবং আমি হয়তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? যদি আমরা খারাপ কাজ করে থাকি, তাহলে সেই রায় জনগণই দিক।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

রয়টার্সকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা

ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন: নেতাকর্মীসহ ‘আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা

আপডেট টাইম : ০৩:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি এবং তার দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তবে দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার শিকারও হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

 

রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তারপরও আমাকে ফিরতে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমার দলের নেতা-কর্মীরা ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদি মৃত্যুই আসে, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতে আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত আছেন এবং যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।’

 

২০২৪ সালে গণবিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

রয়টার্সকে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের প্রতি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা কীভাবে আচরণ করে, তা দেখা যাবে।

 

তিনি জানান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আওয়ামী লীগের নির্বাসিত আরও কয়েকজন নেতাও তার সঙ্গে দেশে ফিরবেন। তাদের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। তবে তিনি কবে দেশে ফিরবেন, কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বা সুনির্দিষ্ট তারিখ কী হবে, তা জানাননি।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। তারা বারবার ভারতকে চিঠি দিয়ে আমাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করছে। কিন্তু আমি নিজেই দেশে ফিরব।’ তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি ।

 

‘গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং বিচার এসব গোপন আলোচনার বিষয় নয়,’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তাই তিনি তাদের বলেছেন, ‘এবার আমি দেশে ফিরছি। একদিন তোমরাও সবাই ফিরে আসবে। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব।’

 

তিনি বলেন, তিনি কারাবাস নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। অতীতেও একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে।

 

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তাকে একাধিকবার আটক করা হয়েছিল। পরে ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হন। মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় ফেরেন।

জামালপুরে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা

২০২৪ সালে দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তার বাসভবনের দিকে জনতা এগিয়ে আসছিল এবং তার জীবনের ওপর হুমকি তৈরি হয়েছিল।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতে পারে। কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু একটি সরকারের ভালো-মন্দ বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।’

 

তিনি জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টিতে অনলাইন বৈঠক করেছেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে কোনো আইনি বাধা নেই: চিফ প্রসিকিউটর

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়ে থাকতে পারে এবং আমি হয়তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? যদি আমরা খারাপ কাজ করে থাকি, তাহলে সেই রায় জনগণই দিক।’